কলা বা টিস্যু
কলা বা টিস্যু কাকে বলে ?
যখন কতগুলো কোষ একই উৎস থেকে উৎপত্তি লাভ করে, একই স্থানে থেকে সম্মিলিতভাবে একটি সাধারণ কাজে নিয়োজিত থাকলে ঐ কোষ সমষ্টিকে কলা বা টিস্যু বলে।

যেমনঃ হৃদপেশি, শুধু হৃদপিণ্ড গঠন করে ও সংকোচন প্রসারন এ ঘটায়।

একই উৎস থেকে সৃষ্টি এবং একই কাজ সম্পাদনের জন্য নিবিড়ভাবে অবস্থানকারী কোষগুচ্ছকে কলা বলে।

গঠন ও কাজের ভিত্তিতে প্রাণিদেহে কলাসমূহকে নিম্নোক্তভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
  1. আবরনী কলা
  2. যোজক কলা
  3. পেশী কলা
  4. স্নায়ু কলা এবং
  5. জনন কলা
Tissue

কলা কত প্রকার ও কি কি?
কলা প্রধানত দুই প্রকার। যথাঃ
  1. ক) ভাজক কলা।
  2. খ) স্থায়ী কলা।

ক) ভাজক কলা আবার দুই প্রকার। যথাঃ
  1. প্রাইমারী ভাজক কলা।
  2. সেকেন্ডারী ভাজক কলা।

খ) স্থায়ী কলা তিন প্রকার। যথাঃ 
  1. সরল স্থায়ী কলা।
  2. জটিল স্থায়ী কলা।
  3. ক্ষরণকারী স্থায়ী কলা।

সরল স্থায়ী কলা তিন প্রকার। যথাঃ 
  1. প্যারেনকাইমা। 
  2. কোলেনকাইমা।
  3. স্কেরেনকাইমা।

জটিল স্থায়ী কলা দুই প্রকার। যথাঃ 
  1. জাইলেম।
  2. ফ্লোয়েম।

৩. ভাজক কলা কি?
যে কলার কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম, তাকে ভাজক কলা বলে।

৪. ভাজক কলার কাজ কি?
  • ক) মূল ও কান্ডের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি 
  • খ) মূল ও কান্ডে বেড় বৃদ্ধি
৫. স্থায়ী কলা কি?
যে কলার কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম, তাকে স্থায়ী কলা বলে।

৬. স্থায়ী কলার কাজ কি?
  • খাদ্য উৎপাদন, 
  • খাদ্য সঞ্চয়, 
  • খাদ্য-পানি-খনিজ লবণ পরিবহন, 
  • বিভিন্ন অঙ্গের দৃঢ়তা প্রদান ইত্যাদি।
৭. পরিবহন টিস্যুতন্ত্র কিসের সমন্বয়ে গঠিত?
জাইলেম ও ফ্লোয়েম।

৮. জাইলেমের কাজ কি?
পানি ও খনিজলবণ মূল হতে পাতায় পরিবহন করা।

৯. ফ্লোয়েমের কাজ কি?
পাতায় তৈরি খাদ্য পরিবহন করা।

আবরণী টিস্যু কাকে বলে?
যে টিস্যু দেহের খোলা অংশ ঢেকে রাখে এবং দেহের ভেতরের আবরণ তৈরি করে তাকে আবরণী টিস্যু (Epithelial Tissue) বলে।

কোষের আকৃতি, অবস্থান, কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী এই টিস্যু ৩ প্রকার।
  1. স্কোয়ামাস 
  2. কিউবয়ডাল 
  3. কলামনার।

আবরণী কলার অপর নাম কী?

আবরণী কলা (Epithelial Tissue) হল প্রাণী কলার চার ধরনের মৌলিক কলার একটি এবং সেই সাথে যোজক কলা, পেশী কলা এবং স্নায়বিক কলার অংশ।

যোজক টিস্যু কাকে বলে?

যে টিস্যুতে মাতৃকার পরিমাণ  তুলনামূলক ভাবে বেশি এবং কোষের  সংখ্যা কম তাকে যোজক টিস্যু বলে।
যোজক কলা এক ধরনের আঁশবহুল কলা, যেটি মানবদেহের অন্যান্য অঙ্গ অথবা কলাকে সমর্থন করে, যুক্ত করে অথবা বিচ্ছিন্ন করে। এটি চার ধরনের কোষকলার একটি (অপর তিনটি হচ্ছে আবরণী, পেশি ও স্নায়ুকলা)।

Previous Post
Next Post

post written by:

DHMS (BHB), PDT and MBA

0 Comments: